পদ্মের অভাব, মাথায় হাত চাষীদের

এই মুহূর্তে ঢাকের কাঠি

 জয়ন্ত সাহা, খবরইন্ডিয়াঅনলাইন আসানসোলঃ   বৃষ্টির খামখেয়ালিতে পদ্মের অভাবে , মাথায় হাত চাষী থেকে পুজো উদ্যোক্তাদের ৷.. দেশের জাতীয় ফুল পদ্ম ৷ অথচ সারা বছর এ ফুলের তেমন চাহিদা না থাকলেও উৎসব ও পূজা অর্চনায় এ ফুলের চাহিদা বাড়তে থাকে ৷ বিশেষত রীতি অনুসারে দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে এই ফুলের চাহিদা ওঠে তুঙ্গে ৷ কথিত আছে, অকাল বোধনের সময় একটি পদ্মের অভাবে রামচন্দ্র দেবী দুর্গাকে তুষ্ট করতে নিজের একটি চোখ নিবেদন করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু এবছর দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তারা কি করবেন তা ভেবে কূল করে উঠতে পারছেন না ! কারণ এবছর দেবীর পূজায় ১০৮ টি পদ্ম জোগাড় করতে তাদের যে হিমশিম খেতে হবে তা প্রায় এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে গেছে ৷ এর
প্রকৃত কারণ হিসাবে পদ্ম চাষীরা বৃষ্টির খামখেয়ালিপনাকেই দায়ী করছেন ৷ সাধারণত গ্রাম বাংলার বুকে রেললাইনের ধারে, নদীর পাড়ে নিচু জলাশয়গুলিতে বর্ষার শেষ দিকে আমরা অসংখ্য পদ্ম ফুল ফুঁটে থাকতে দেখতে পাই ।

দক্ষিণবঙ্গের এই প্রান্ত সীমান্ত আসানসোল শিল্পাঞ্চল নামে খ্যাত হলেও এখনো শিল্পাঞ্চলের আশেপাশের গ্রামগুলিতে পদ্ম দিঘির দেখা মেলে ৷ প্রয়োজন অনুসারে একই সাথে পার্শ্ববর্তী জেলা বাঁকুড়া পুরুলিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকা থেকেও পদ্মের যোগান আসে ৷ তবে কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে পদ্ম চাষের কিছু বাড় বাড়ন্ত দেখা গেলেও তা সাধারণত ওই অঞ্চলের চাহিদা মেটাতেই ফুরিয়ে যায় ৷ স্থানীয় পদ্ম চাষী প্রসেঞ্জিত ধীবর জানিয়েছেন , জলাশয় মাত্রই পদ্ম চাষের উপযুক্ত নয় ৷ কথায় আছে পদ্ম পাঁকে জন্মে , তাই জল ও পাঁক দুটৌই দরকার পদ্মের । শিল্পাঞ্চলে বর্ষা ঋতুর প্রথম দিকে কিছু ভারী বৃষ্টি হলেও শেষের দিকে বৃষ্টির তেমন দেখা মেলেনি ৷ ফলে বিঘের পর বিঘে জমি ও জলাশয়গুলিতে জলের অভাবে পদ্ম চারা মারা গিয়েছে ৷ একই সাথে পদ্ম চাষের জলাশয়গুলিতে সাপের অবস্থান থাকে ৷ তাই বৃষ্টির খামখেয়ালিপনা , প্রকৃত জলাশয় , উন্নত বীজ , পদ্মের কাঁটা ও সাপের ছোবলের হাত থেকে জীবন বাঁচিয়ে পদ্ম চাষে ঝুঁকি নিতে চাইছেনা অনেকেই ৷

একই সাথে এবছর চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় পদ্ম ফুলের কিছু দাম বাড়লেও অন্যান্য বছর তেমন লাভের মুখ দেখা যায়না ৷ একই সাথে পদ্ম ও অন্যান্য ফুলের চাষীরা বাজারে প্লাস্টিকের কৃত্রিম ফুলের চাহিদা বাড়াকেও দায়ী করেছেন অনেকাংশে ৷ তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে অন্যান্য বারের তুলনায় এ বছর সত্যিই পদ্মের জোগান অনেকটাই কম। বাজারে
পদ্মের এই আকালে রীতিমতো মাথায় হাত পড়েছে পুজো উদ্যোক্তাদের।

অন্যবছর যেখানে এক একটি পদ্ম তারা কিনেছেন ৫ থেকে ৬ টাকার মধ্যে , এ বছর সেখানে চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় দাম বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে প্রায় তিনগুন। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সেক্ষেত্রে তাদের বাজেটেও টান পড়ার আশঙ্কায় ছোটো বাজেটের পূজা কমিটি ও উদ্যোক্তারা ৷ রীতি মেনে পুজো করতে গেলে কি আগামী দিনে প্লাস্টিকের কৃত্রিম ফুলেই ভরষা করতে হবে ? প্রশ্ন উঠছে সেখানেও ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *