তপসী মহিলা দূর্গা পুজো

এই মুহূর্তে ঢাকের কাঠি

জয়ন্ত সাহা, খবরইন্ডিয়াঅনলাইনঃ   আসানসোল তপশিলি মহিলা দূর্গা পূঁজা গ্রামে একটি মাত্র দুর্গাপূজা সেটাও আবার উচ্চবর্ণের পারিবারিক পূজা। সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের কু প্রভাব এর ফলে দুর্গাপূজার সময় পূজোর সমস্ত আয়োজন ,উপবাস সবই হত নিয়ম মেনে। কিন্তু মন্দিরে গিয়ে নিজের মত করে পুজো দেওয়াটা কখনো সম্ভব হয়নি ।সম্ভব হয়নি অঞ্জলি দেওয়া। উচ্চবর্ণের পারিবারিক পূজা হওয়ার ফলে কেউ কিছু না বললেও নিজেদের সংকোচ এর ফলে অঞ্জলি দেওয়া , মাকে ভোগ অর্পণ করা বা মন্দিরে ভেতরে ঢুকে একটু মায়ের দিকে চেয়ে বসা সবই ছিল মনের ইচ্ছা ।কখনও প্রকাশ করা যায়নি ।কিন্তু বর্তমানে যুগে ঘরের সন্তানরা এবং বউ মা রা আধুনিকা এবং শিক্ষিত হওয়ার জন্য তারা এই প্রথা মেনে নিতে পারেনি ।তারা চেয়েছিল আরো ১০ জনের মতো নিজের হাতে মাকে সাজানো ,ভোগ অর্পণ করা এবং অঞ্জলি দেওয়া ।এর জন্য গত ৮ (আট) বছর আগে জামুরিয়া থানার অন্তর্গত তপসি গ্রামের তপশিলি জাতির মহিলারা ঠিক করেন নিজেদের উদ্যোগে দুর্গা পূজা করা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করে তারা প্রথম বছর পুজো শুরু করেন ।

 

তাদের এই যাত্রাটা খুব একটা সহজ ছিল না।অর্থনৈতিক সংকট , পরিবারের বাধা , দুর্গাপূজা না করার ফলে অভিজ্ঞতার অভাব সবকিছুকে জয় করে প্রথম বছর পুজো করাটা সম্ভব হয়েছিল। দেখতে দেখতে এই মহিলা পরিচালিত পুজোর বয়স বর্তমানে ৮ বছর বৈদিক ধর্ম মেনে দুর্গা মায়ের পূজার্চনা করা হয় এই মহিলা গোষ্ঠীর সদস্য কালা মনি বাউরী মায়া বাউরি বীণাপাণি বাউরী রা জানান মহিলা দ্বারা পরিচালিত সার্বজনীন দুর্গাপূজা হওয়াতে গ্রামের প্রতিটি স্তরের মানুষ খুবই খুশি পুজোর চারটি দিন তারা সকলে খুব আনন্দে পার করেন এবং দূর্গা পূজার যে নিয়ম এবং দূর্গা পূজার যে গুরুত্ব তারা উপভোগ করেন অতীতের কথা ভুলে তারা বর্তমানে সঙ্গে চলতে চান এবং তাদের সন্তান-সন্ততিদের এক নতুন সমাজ উপহার দিতে চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *