অবসাদ যখন গিলছে ছেলেবেলাকে

লাইফস্টাইল

 প্রিয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায়, খবরইন্ডিয়াঅনলাইনঃ    ডিজিটাল যুগে সবাই যখন মুখরিত সোশ্যাল মিডিয়াকে কেন্দ্র করে ,ঠিক সেই সময় অবসাদ একাকীত্ব চুপিচুপি কেড়ে নেয় ছোটদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবন। পাড়ায় মাঠে আর হইচই করেনা দস্যি ছেলের দল , ভাঙ্গেনা সাধের কাছের জানলা। এমনকি পাশের বাড়ির মেয়েটার গানের সময়সীমা ক্রমাগত কমে বন্ধের দিকে। শোনা গেল পাড়ার সেই মিষ্টি মেয়ে প্রেরণা আর নেই। কোন রোগ তার জীবন থামিয়ে দেয়নি , দিয়েছে তার অবসাদ। সিডিসি এর মধ্যে ১৫ থেকে কুড়ি বছর বয়সী ছেলেমেয়েরাই চারবার আত্মঘাতী হবার চেষ্টা করে। বলাবাহুল্য এ ক্ষেত্রে ছেলে থেকে মেয়েদের আত্মহত্যার হার দ্বিগুণ।

 

তবে আঞ্চলিক পর্যায়ে এই অনুপাতে ব্যাপক বৈচিত্র বর্তমান। পশ্চিমবঙ্গের কমপক্ষে ৭২৭৭ জন ছেলে মেয়ের জীবন কেড়েছে অবসাদ। আনুপাতিক দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করলে ছেলে ও মেয়ের আত্মহত্যা অনুপাত ৪ঃ৩।অনেকের মনে হতে পারে, ছোট ছোট জীবন অকালে ঝরে পড়ার কি এমন কারণ থাকতে পারে?

 

২০১৮ দোরগোড়ায় এসে আধুনিকতার দাবিতে প্রেমিক-প্রেমিকার সান্নিধ্য একালের ফ্যাশন। সেই প্রচলিত ধারা থেকে প্রেমিক প্রেমিকার বিচ্ছেদ ঠেলে দেয় অবসরের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন এক ঘরে,কিংবা প্রতিযোগিতা মুখর দিনে নিজেকে পরাজিত হতে হবে বা বাবা-মায়ের ক্ষণিকের শাসনের আশঙ্কায় আশঙ্কিত হয়ে জীবনযুদ্ধ থেকে ওয়ার্ক আউট দিয়ে যায়।পারিবারিক অশান্তি অথবা এমন কোন অব্যক্ত সমস্যা যা কুরে কুরে খায় কৈশোর কালকে।এই নেটওয়ার্ক নির্ভর সমাজে মনের যাবতীয় ভারবস্তু,মনে সঞ্চিত হয় অবশেষে অবসাদের কবলে পড়ে মাঝপথেই দাড়ি টানতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার পাল্লায় পড়ে আমরা পাশে থাকা ব্যক্তির সাথে সময় কাটাতে ভুলে যাই। কৈশোর জীবনে পারিবারিক আনুগত্য এবং মা-বাবার সঙ্গে সহজ অভিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

স্বাভাবিক জীবন থেকে সরে আসা নিরুত্তাপ খিটখিটে মেজাজী ছেলে মেয়েদের কারণে-অকারণে শাসন বা সমালোচনা, ছোট করা একেবারেই সঠিক পন্থা নয়। ছেলে মেয়ের প্রতি বাবার আচার-আচরণ দৃষ্টিরোপ করা প্রয়োজন।এছাড়া জীবনমুখী কথোপকথন এবংবন্ধুর মতো চুক্তি দ্বারা সমাধান জ্ঞাপন,সন্তানের নিজের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করা মূল দায়িত্ব বাবা-মায়ের ও পরিবারের কোন নিকটস্থ ব্যক্তির।এমনকী,কিছু সফল মানুষের জীবনী ও তাদের ব্যর্থতা থেকে সফলতা লাভ হওয়ার সংগ্রামের ঘটনাসমূহ বলে অনুপ্রাণিত করা এবং বোঝানোর প্রয়োজন ব্যর্থ হয়ে প্রচেষ্টা থামিয়ে দেওয়া নির্বুদ্ধিতা । আত্মবিশ্বাস মূলমন্ত্র জীবনমুখী থাকা। walt disney বলেছেন,”যখন আপনার বয়স অল্প তখন ব্যর্থতা থাকা ভালো কারণ এটা আপনাকে অনেক কিছু শেখার এবং আপনি একবার খারাপ কিছু মুখোমুখি হলে পরে কখনো থেমে থাকবেন না।”

 

রেজাল্টের অসফলতা কখনো জীবন ব্যর্থ করে না, ব্যর্থ ও অসফল তারাই যারা জীবনবিমুখ। হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে আত্মহত্যা কোন সমস্যার সমাধান নয় এতে মা-বাবার ও পরিবারের এই ঝড় তাদের উত্তাল করে দেবে। তাকে ঘিরে থাকা মানুষগুলোর জীবনে যে দাগ কাটবে তা কষ্টকর অসহনীয়। শত ঘাত-প্রতিঘাতে জীবনমুখী হয়ে থাকার মজাটাই আলাদা। লড়াই করে বাঁচা মানুষের একমাত্র কর্তব্য। গোলাপের যেমন কাঁটা থাকে , জীবনেও তেমনি কাঁটা স্বরুপ দুঃখ আছে সমস্ত নিয়ে চলাই সফলতা প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *