ফিরোজা বেগম -এর জন্মবার্ষিকীর প্রতি শ্রদ্ধা

বিনোদন

খবরইন্ডিয়াঅনলাইন, ওয়েবডেস্কঃ    নজরুল সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের ৮৮ তম জন্মবার্ষিকীর জন্য আজ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে।

 

 

১৯৩০ সালে ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া গুণী এই শিল্পী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন সময় অল-ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গেয়ে সঙ্গীতবোদ্ধাদের নজরে আসেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে ১৯৪২ সালে তৎকালীন খ্যাতিমান সংগীত প্রতিষ্ঠান এইচএমভি থেকে বের হয় তার প্রথম গানের রেকর্ড। এইচএমভির রিহার্সেলেই কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাত হয়। প্রথম সাক্ষাতেই কবিকে তিনি গেয়ে শুনিয়েছিলেন- ‘যদি পরানে না জাগে আকুল পিয়াসা’। ১১-১২ বছরের ফিরোজার কণ্ঠে ওই গান শুনে নজরুল আনন্দ পান।  জীবনের বাকিটা সময় ফিরোজা, নজরুলের গানকেই পরম মমতায় আঁকড়ে রেখেছিলেন।

 

মুসলিম নারীরা যখন ঘর থেকেই বের হতে পারতেন না,  পর্দার আড়ালেই জীবন কাটিয়ে দিতেন, ঠিক সে সময় সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারের কন্যা হয়েও সংগীতের ব্যাপারে কখনো আপোষ করেননি সুরের এই সম্রাজ্ঞী। নজরুল সঙ্গীতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া ফিরোজার বাবা ছিলেন ফরিদপুরের জমিদার খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মা বেগম কওকাবুন্নেসার। তাঁর বাবা বৃটিশ সরকারের প্রথম মুসলমান সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। ১৯৫৬ সালে উপমহাদেশের বিখ্যাত সংগীতকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন ফিরোজা বেগম। তাদের তিন পুত্র তাহসীন, হামিন এবং শাফিন। মায়ের মতো হামিন এবং শাফিনও সংগীত জগতে নিজেদের প্রতিভা দেখিয়েছেন।

শুধু নজরুল নয়, সংগীতের সকল শাখায় ছিল ফিরোজা বেগমের অবাধ বিচরণ। শুধু এ দেশে নয়, দুই বাংলার বাঙালির কাছেই ফিরোজা বেগম সমানভাবে সমাদৃত। উপমহাদেশীয় সংগীতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় তাঁকে। নজরুল সংগীত ছাড়াও গজল, কাওয়ালি, হামদ-নাত, ও আধুনিক গানসহ সব ধরণের গানেই তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন সানন্দেই, এমনকি গেয়েছেন রবীন্দ্রসংগীতও। তার গাওয়া ‘মোমের পুতুল’, ‘দূর দ্বীপবাসিনী’, ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো’ গানগুলো তার সংগীত জীবনে বড় ধরনের সাফল্য পান।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য গুণী এই শিল্পী স্বাধীনতা পদক, একুশে পুরস্কারসহ পেয়েছেন আরও অনেক সম্মাননা। কিডনি জটিলতায় ভুগে ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিরতরে নিভে যায় সংগীত জগতের এই পুরোধা ব্যক্তির প্রাণ। কিন্তু তার সেই গানের মতোই তিনি জ্বলজ্বল করে আছেন অগণিত ভক্তদের মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *