জামাই ষষ্ঠী টু জামাই আদর

হেঁসেল


জামাই ষষ্ঠী আজকে তাই জামাইয়ের কদর,
শাশুড়িরা জামাইকে খাওয়ার খাওয়াবে করিয়া আদর।
মাছ মিষ্টি দই পাঁপড়, ব্যঞ্জন হয় ভাল,
জামাইকে খেতে দেয় বহূমূল্য স্বর্ণথালাতে।
জামাই ষষ্ঠী আজিকে তাই হয় ভারি ধূম ধাম,
শ্বশুর ও শাশুড়িকে জামাই শুরুতেই করিয়া প্রণাম।
জামাই ষষ্ঠীর দিনে যদি জামাই পায় আশীর্বাদ,
মনস্কামনা পূর্ণ হয় জামাইয়ের মনোসাধ।
ধন্য ধন্য জামাইগণ, শ্বশুরের গৃহে আগমণ,
ঘরে ঘরে ব্যস্ত সবে জামাইষষ্ঠীর আয়োজন।

৩রা জুন,রিষড়া,দেবলীনা বিশ্বাস:বছরজুড়ে কমবেশি ফল পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এ জ্যৈষ্ঠ মাসে। চারদিকে এখন নানান ফলের মোঁ মোঁ গন্ধ আর ভ্রমরের গুঞ্জন। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা রসালো ফলে প্রকৃতিতে ঢেলে দিয়েছে তার সমস্ত গন্ধ। বাঙালীর চিরায়ত রীতি অনুযায়ী জ্যৈষ্ঠ মাসেই মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিকে ফল দিয়ে আদর-আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে থাকেন শহর থেকে গ্রামবাসী বাবা-মায়েরা। লেখাপড়া, চাকরি কিংবা ব্যবসার কারণে যারা শহরে থাকেন তারাও ফেরে মধুমাসের মধুর রসে মুখকে রাঙিয়ে তুলতে। আবার অনেক সময় দেখা যায় মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনি না আসতে পারলেও তাদের জন্য ফল পাঠিয়ে দেয়া হয়। বিভিন্ন প্রজাতির ফলের সমারোহ থাকে বলেই হয়ত জ্যৈষ্ঠ মাসে আয়োজন করা হয় জামাই ষষ্ঠীর। গ্রাম ও শহরে জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষে ষষ্ঠী তিথিতে সনাতন ধর্মের নারীরা ষষ্ঠী পূজা করেন। ঘর ও মন্দিরের বাইরে বট, করমচার ডাল পুঁতে প্রতীকী অর্থে অরণ্য তৈরি করে এ পূজা করা হয়। এজন্য জামাইষষ্ঠীকে অরণ্যষষ্ঠীও বলা হয়। মধু মাসে জামাই ষষ্ঠী বাংলার লোক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাঙালি সমাজে এ উৎসবটি আদিকাল থেকে ঘরে ঘরে পালিত হয়ে আসছে।বিশেষ করে শাশুড়ি মায়েরা ষষ্ঠী ব্রত পালন করেন। এই ষষ্ঠী ব্রত উপলক্ষে শাশুড়ি কর্তৃক জামাইকে দেওয়া সংবর্ধনাই মূলত জামাই ষষ্ঠী। কালের বিবর্তনে জামাই ষষ্ঠী অনেকটা হারিয়ে যাচ্ছে। তবে জামাই ষষ্ঠীর রেওয়াজটা সমাজ থেকে একবারে উঠে যায়নি। যদিও এক সময় এ প্রথাটি এ দেশের গ্রামে-শহরে, ঘরে ঘরে খুব ঘটা করে পালন করা হতো। ষষ্ঠী পুজোয় ব্রতীরা সকালে চান করে উপোস থেকে নতুন পাখার ওপর আম্রপল্লব, আমসহ পাঁচফল আর ১০৮টি দুর্বাবাঁধা আঁটি দিয়ে পূজার উপকরণের সঙ্গে রাখে। করমচাসহ পাঁচ-সাত বা নয় রকমের ফল কেটে কাঁঠাল পাতার ওপর সাজিয়ে পুজোর সামনে রাখা হয়। ধান এ পুজোর সমৃদ্ধির প্রতীক, বহু সন্তানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং দুর্বা চিরসবুজ, চিরসতেজ বেঁচে থাকার ক্ষমতার অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ দুর্বা হল দীর্ঘ জীবনের প্রতীক।
জামাইর জন্য মঙ্গল কামনা হবে, জামাইর ভুরি ভোজন হবে, জামাই উপহারে ডুবে যাবে। না, এটা শুধু হিন্দু ধর্মে করে তা নয়। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে জামাইর কদর ঘরে ঘরে।

এই একটা দিন জামাইকে মনের মতো করে খাওয়াবেন বলে শাশুড়িরা যেমন অপেক্ষায় থাকেন, তেমনই অনেক পেটুক জামাইও শাশুড়ি কী কী সাজিয়ে দেবেন পাতে তা নিয়ে বেশ মজায় থাকেন। তবে শাশুড়ি যেমন নানা প্রকার, জামাইরাও তেমন। দেখে নিন যে ৫ ধরনের জামাই।

পেটুক জামাই: বছরে একটা দিন শাশুড়ির হাতে ভালমন্দ কব্জি ডুবিয়ে খাবেন বলে সারা বছর অপেক্ষায় বসে থাকেন এরা। এই জামাইদের খাইয়ে শাশুড়িরাও খুশ।

পেট রোগা জামাই: শাশুড়ি যতই ঘেমে নেয়ে চর্ব-চোষ্য রাঁধুন না কেন এই জামাইরা অল্পেই খুশি। বাবা, বাছা করে একটু চেপেচুপে খাওয়াতে গেলেই আবার আরেক বিপদ!

বুঝদার জামাই:গরম, অফিস, শাশুড়ির বয়স, বাতের ব্যথার কথা মাথায় রেখে এরা বিশেষ কষ্ট দিতে চান না। কোনও রেস্তোরাঁয় ডিনার বা ছুটির দিনের দুপুরে শ্বশুরবাড়ি ঢুঁ মেরে যেতেই এরা স্বচ্ছন্দ।

অনুপস্থিত: অনেকেই এখন কলকাতার বাইরে সেটলড। তাই শাশুড়িদের যতই মনোবাঞ্ছা থাকুক আমা, জাম, কাঁঠাল, মিষ্টি, পোলাও, কালিয়া সাজিয়ে দেবেন জামাই বাবাজির ভাগ্য কি সে সুখ আছে! আর এই জামাইরা যদি পেটুক হন তাহলে তো কথাই নেই। অন্যদের ফেসবুক প্রোফালেই সাজানো থালা থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলেই কাটাতে হবে ষষ্ঠী।

বঞ্চিত জামাই: যতই খাওয়ার শখ থাকুক, যতই পেটুক হোক না কেন শাশুড়িরাই যে বিমুখ। বাড়িতে জামাইষ্ঠীর প্রথা নেই যে।
শেষ পাতে শাশুড়িদের জন্য রইল
ইলিশ মাছের পাতুরি…..

উপকরণ
ইলিশ মাছ ৪ টুকরো, সর্ষে বাটা পরিমান মতো, কাঁচা লঙ্কা ৫টি ৬ টি, সর্ষের তেল, হলুদ গুঁড়ো, লবন স্বাদ অনুযায়ী, কলাপাতা, সূতো (কলাপাতা মোড়ার জন্য)।

প্রণালী
প্রথমে একটি পাত্রে পরিমান মতো সর্ষে বাটা, পরিমান মতো তেল, লবন, হলুদ ও অল্প কিছু লঙ্কা কুঁচি দিয়ে ভালো করে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এবার আর একটি পাত্রে ইলিশের সাথে এই মিশ্রণটি ভালো করে মাখিয়ে নিন। এবার পাত্রটিকে ২০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার কলাপাতাটিকে চারটি বড়ো টুকরো করে কেটে নিন। এমন ভাবে কাটুন যাতে প্রতি টুকরো দিয়ে ইলিশ মাছের টুকরোগুলোকে মোড়ানো যেতে পারে। এবার কলাপাতাগুলোকে আগুনের তাপে রাখতে হবে যাতে ও গুলি নরম হয়ে যায় এবং সহজেই মোড়ানো যায়।
এবার একটি কলাপাতার টুকরো নিন, তাতে ভালো করে তেল মাখিয়ে নিন। এবার তাতে আগে থেকে সর্ষে দিয়ে মাখিয়ে রাখা একটি ইলিশ মাছের টুকরো রাখুন। এরপরে একটি বা দুটি কাঁচা লঙ্কা চিরে রেখে দিন। এবার কলাপাতাটিকে ভালো করে মুড়িয়ে সুতো বেঁধে নিন। একই ভাবে বাকি মাছের টুকরো গুলিকে কলাপাতায় মুড়িয়ে নিন।

এবার একটি তাওয়া, বা পাত্র গ্যাসে গরম করে নিন এরপর তাতে অল্প সর্ষের তেল দিয়ে এক একটি করে কলাপাতায় মোড়ানো ইলিশ রাখুন। এবার তাওয়া বা পাত্রটি ঢেকে দিন। এবার অল্প আঁচে রান্না হতে দিন। ১০ মিনিট পর ঢাকনা সরিয়ে কলাপাতা মোড়া অবস্থায়  ইলিশগুলিকে  উল্টে দেখুন। যদি একদিক কালো হয়ে যায় তবে তা উল্টে দিন। আবার ঢেকে দিন। আরও পাঁচ মিনিট রান্না হতে দিন। গ্যাস বন্ধ করুন। ইলিশ মাছের পাতুরি তৈরি। এবার গরম ভাতে কলাপাতা মোর ইলিশ মাছের পাতুরি পরিবেশন করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *