গল্প

এই মুহূর্তে সাহিত্য / কবিতা


গল্প লেখার জন্য নিজের বাড়ি হল সবচাইতে বিপজ্জনক জায়গা। বৌ এর ফরমাইশি মেয়ের বায়না আর কাজের লোকের ঝাড়ু দেওয়ার মত অপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য কথায় কথায় ফ্যান বন্ধ করে দেওয়া এগুলো মেনে নেওয়া গেলেও সিড়ির নীচে বিড়ির দোকানে বাজতে থাকা গান জাস্ট নেওয়া যায়না। অগত্যা দক্ষিণ কলকাতার এই অনামী রেস্টুরেন্টে এসে বসা।
কোল্ড কফি আর বার্গারের অর্ডার দিয়ে চলে যাওয়ার সময় মহিলাকে ভীষণ চেনা লাগল। আমি আবার কারোর মুখ আর নাম ভুলতে পারি না। এক ঝটকায় মনে পড়ল। রুকসানা! আমার সাথে স্কুলে পড়ত। কিন্তু এত অপরিবর্তনীয় সৌন্দর্য, আজও?
রুকসানা আমাদের হার্টথ্রব, কৌশিক সুলেমান আমি পেছনের বেঞ্চিতে বসতাম শুধু গোনার জন্য রুকসানা কবার পেছন ঘুড়ল।
পড়াশুনায় অস্বাভাবিক মেধাবী আর তেমনি নিরাড়ম্বর সাজ। ক্লাসের মনামী তখন হিরোইন হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে রুকসানার সাথে। কিন্তু জয় তার অধরা।
একদিন ছুটির সময় রুকসানার মা কে দেখলাম প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলছে আর অঝোরে কাঁদছে। বুঝিনি তবে পাশে চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকা রুকসানা কে দেখেছিলাম। এর কিছুদিন সে স্কুলে এলনা তারপর একদিন স্কুলে পুলিশ ঢুকে চন্দ্রানী ম্যাডাম আর প্রিন্সিপালকে ধরে নিয়ে গেল। যাবার সময় রুকসানার বাবা মনামীকে ধন্যবাদ দিয়ে গেল। জানতে পারলাম রুকসানার বিয়ে। ওর আম্মি ওকে আরোও পড়াতে চেয়েছিল বলে প্রিন্সিপাল ওকে চন্দ্রানী ম্যামের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল।
স্যার ম্যাম দুজনেই ছাড়া পেয়ে যান। কিন্তু রুকসানাকে কেউই আর মনে করতে চায়নি।

এর পর এখানে ওর সাথে দেখা। আমি পেছন থেকে ডাকলাম। চিনতে একটু সময় লাগল ওর। জানাল মাধ্যমিকটা আর সেবার দেওয়া হয়নি। ওর বিয়ের দিন ওর আম্মি মারা যায়। অত্যাচারে না আত্মহত্যায় ও জানেনা। শ্বশুরবাড়ি যাবার পথে পালিয়ে যায় সে। একটা বিদেশী সংস্থার সাথে আলাপ করে শবনম নামে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে মেধার জোরে হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়ে আজ এই নিজের হোটেলটা বানিয়েছে।
এত সফল গল্প আমি শুনিনি কখোনো। জিজ্ঞেস করলাম বিয়ে করেছ। সে বলল” এখোনো তাঁর সাথে তালাক হয়নি যে! ” ধন্য ভারতের নারী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *