রাইফেল ফ‍্যাক্টরির আগ্নেয়াস্ত্র পাচার

এই মুহূর্তে সারাবাংলা

সৌমিলি পাল: ইছাপুর রাইফেল ফ‍্যাক্টরিতে সেনা ও পুলিশের জন্য তৈরি করা আগ্নেয়াস্ত্র পাচার হয়ে যাচ্ছে বাইরে। এমনকী তা পৌঁছে যাচ্ছে বিহারের মাওবাদীদের হাতেও। কখন‌ও বা সীমান্ত পেরিয়ে নেপালেও পৌঁছে গেছে এসব আগ্নেয়াস্ত্র। শুধু অস্ত্র‌ই নয়, বেরিয়ে গেছে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির নকশাও। পরবর্তীকালে সেই নকশা চলে যায় মুঙ্গেরে বেআইনি অস্ত্রের কারবারিদের কাছে। গোটা চক্রের শিকড় যে ইছাপুর রাইফেল ফ‍্যাক্টরির অন্দরেই লুকিয়ে রয়েছে, তা এখানকার দুই কর্মী সহ ছ’জনকে গ্রেফতারের পর পরিষ্কার হয়ে গেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের কাছে।
তদন্তে জানা গেছে গুড্ডু নামে এই ব‍্যক্তি ২০০৮ সাল থেকে এই কারবারে জড়িত। ইনসাস, এস‌এল‌আরের মতো বড় আগ্নেয়াস্ত্র তিন থেকে চার লাখ টাকায় বিক্রি করা হতো, আর ছোট আর্মস বিক্রি হত ৩০-৩৫ হাজার টাকায়। বিনিময়ে ইছাপুর রাইফেল ফ‍্যাক্টরির দুই কর্মী সুখদা মুর্মু ও সুশান্ত বোস এবং অন‍্যরা অস্ত্র পিছু ৫-৬ হাজার টাকা করে পেত। ঘটনায় যুক্ত গুড্ডুর শাগরেদ রাজেশ কুমার ওরফে মুন্না-কে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তার মাধ্যমেই এ কে সিরিজের মতো আগ্নেয়াস্ত্র বিহারে মাওবাদীদের হাতে গিয়েছিল বলে এসটিএফের দাবি।
আগ্নেয়াস্ত্র পাচারকান্ডে মূল অভিযুক্ত গুড্ডুর সহযোগী গনেশ পাশোয়ানকে গ্রেফতার করে এসটিএফ, কাল তাকে ব‍্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হয়। সব অস্ত্র মাওবাদী সহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের কাছে সরবরাহ করেছে অভিযুক্ত। ধৃতকে জেরা করে এই জঙ্গি সংগঠনগুলির নেতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গনেশ পুলিশকে জানায়, অস্ত্র কারবারে তার হাতেখড়ি গুড্ডুর হাত ধরেই। গুড্ডুর বলে দেওয়া কৌশলেই গনেশ ইছাপুর ফ‍্যাক্টরির ভিতর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বাইরে বের করে নিয়ে আসে। তা রাখা হত ইছাপুর লাগোয়া এলাকায় গুড্ডুর অস্ত্রভাণ্ডার। মূলত গাড়ি করেই আগ্নেয়াস্ত্র বিহারে নিয়ে যাওয়া হত। তবে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র মাঝেমধ্যে ট্রেনে করে সে নিয়ে গেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই কারবারে বিহারের আর‌ও অনেকেই জড়িত বলে গনেশ জেরায় জানিয়েছে। তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের ধরতে আবার বিহারে র‌ওনা দেবে এসটিএফের টিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *